প্রচ্ছদ > বিনোদন >

সেই কেটামিন কুইনের ১৫ বছর কারাদণ্ড

article-img

হলিউড তারকা ম্যাথিউ পেরির মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত মাদক কারবারি জাসভিন সাংঘাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। ‘ফ্রেন্ডস’ খ্যাত এই অভিনেতার মৃত্যুর কারণ মাদক সেবন, যেটা এই নারী তাকে সরবরাহ করেছিল বলে জানা গেছে।

এর দায়ে বুধবার (৮ এপ্রিল) ৪২ বছর বয়সি এই ব্রিটিশ-আমেরিকান নারীকে এই সাজা শোনানো হয়।

ভারতের পাঞ্জাব বংশোদ্ভূত জাসভিন সাংঘা দীর্ঘদিন ধরে লস অ্যাঞ্জেলেসে উচ্চবিত্ত ও তারকাদের মাদক সরবরাহ করে আসছিলেন। প্রসিকিউটরদের মতে, তিনি তার বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট থেকে একটি বিশাল মাদক নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন।

নিজেকে তিনি হলিউডের ‘এক্সক্লুসিভ ডিলার’ হিসেবে জাহির করতেন এবং দাবি করতেন তার সব গ্রাহকরা ‘ভিআইপি সেলিব্রিটি’ সার্কেলের সদস্য। হলিউড মহলে তিনি ‘কেটামিন কুইন’ নামে পরিচিত ছিলেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, পেরি যেই মাসে মারা যান সেই মাসে জাসভিন সাংঘা এবং এরিক ফ্লেমিং নামে এক ব্যক্তি অভিনেতার কাছে ৫১ ভায়াল কেটামিন বিক্রি করেন। এই মাদকগুলো পেরির ব্যক্তিগত সহকারী কেনেথ ইওয়ামাসার মাধ্যমে অভিনেতার কাছে পৌঁছাত।

২০২৩ সালের অক্টোবরে লস অ্যাঞ্জেলেসের বাসভবনে ‘হট টাব’ থেকে অজ্ঞান অবস্থায় পেরিকে উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তে অতিরিক্ত কেটামিন গ্রহণের বিষয়টি উঠে আসে।

ম্যাথিউ পেরির মৃত্যুর খবর গণমাধ্যমে দেখার পরপরই জাসভিন সাংঘা তার সহযোগী ফ্লেমিংকে এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ ‘সিগন্যাল’-এ বার্তা পাঠিয়ে বলেন, ‘আমাদের সব মেসেজ ডিলিট করে দাও।’

এ বিষয়ে প্রসিকিউটররা আদালতে যুক্তি দেখান, এটিই প্রমাণ করে যে তিনি জানতেন তার সরবরাহ করা মাদকেই অভিনেতার মৃত্যু হয়েছে এবং তিনি তড়িঘড়ি করে প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেছিলেন।

সঙ্গে জাসভিনের পারিবারিক ও শিক্ষাগত পটভূমি তুলে ধরে প্রসিকিউটররা বলেন, এটি কোনো অভাব বা হতাশার গল্প নয়। তিনি ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং ২০১০ সালে এমবিএ সম্পন্ন করেছিলেন। ভালো শিক্ষিত ও সচ্ছল পরিবার থেকে আসা সত্ত্বেও তিনি কেবল ‘লোভ, গ্ল্যামার এবং প্রতিপত্তির’ টানে এই অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

অবশ্য ম্যাথিউ পেরি ছাড়াও ২০১৯ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসের বাসিন্দা কোডি ম্যাকলরি নামক এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায়ও জাসভিনের নাম জড়িয়েছে। প্রসিকিউটরদের মতে, জাসভিনের কাছ থেকে কেটামিন কেনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কোডির মৃত্যু হয়েছিল। এরপরও তিনি মাদক ব্যবসা চালিয়ে যান।

সাজা ঘোষণার আগে আদালতে জাসভিন সাংঘা অনুশোচনা করে বলেন, ‘আমি প্রতিদিন ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমাকে এই জগত থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য এবং জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি দেওয়ার জন্য আমি ধন্যবাদ জানাই।’

এদিকে তার আইনজীবীদের দাবি ছিল, জাসভিন অপরাধের দায় স্বীকার করেছেন এবং গত দুই বছর ধরে তিনি সুস্থ জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন। তবে আদালত এসব যুক্তি নাকচ করে তাকে ১৫ বছরের দীর্ঘ কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। ২০২৪ সালের আগস্টে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই তিনি ফেডারেল হেফাজতে ছিলেন।